নিজস্ব প্রতিবেদক।। কেরানীগঞ্জ,সাভার,আশুলিয়া, ধামরাইসহ ঢাকা জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় যাত্রীবেশে অভিনব কৌশলে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অটোরিক্সা চুরি ও চোরাই অটোরিক্সা ক্রয়-বিক্রয় চক্রের মূলহোতা শানুসহ ১২ জনকে আটক করেছে ঢাকা জেলা দক্ষিন গোয়েন্দা শাখার পুলিশ (ডিবি)।
বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারি ) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা জেলা দক্ষিন গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জনাব সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন। এসময় তিনি বলেন,গত মঙ্গলবার ও গতকাল বুধবার রাত্রে কেরানীগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া,ধামরাইসহ ঢাকা জেলার বিভিন্ন থানার এলাকা থেকে অটোরিক্সা চুরি ও চোরাই অটোরিক্সা ক্রয়-বিক্রয় চক্রের মূলহোতা শানুসহ ১২ জনকে আটক করা হয়।
আটককৃত আসামি হলেন,১। শানু খাঁ (৪১) ২। মোঃ মোজাফ্ফর আকন্দ ওরফে স্বপন (৩৫),৩। মোঃ আবু তাহের (৪৫),৪। মোঃ সুজন হাওলাদার(২৭),৫। আঁখি আক্তার(২৩), ৬। মোঃ রাশেদ (৪০),৭। মাসুদ হাওলাদার(৪৮), ৮। মোঃ সাইফুল ইসলাম ওরফে জয় রাজবংশী (২৭),৯। মোঃ আকাশ মৃধা(২৫),১০। মোঃ কাদির মৃধা(৪৫),১১। মোঃ তপন (২৭),১২। মোঃ আসলাম হোসেন(৪৮)।
ঢাকা জেলা দক্ষিন গোয়েন্দা পুলিশের এস আই (নিঃ) জহিরুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ গতকাল মঙ্গলবার রাত্র ১১টা ৩০ ও গতকাল বুধবার রাত্র ১২টা ২০ মিনিটের সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কেরানীগঞ্জ,সাভার,আশুলিয়া, ধামরাইসহ ঢাকা জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় বিশেষ অভিযানের ডিউটি চলাকালে (১)। শানু খাঁ (৪১) ২। মোঃ মোজাফ্ফর আকন্দ ওরফে স্বপন (৩৫),৩। মোঃ আবু তাহের (৪৫),৪। মোঃ সুজন হাওলাদার(২৭),৫। আঁখি আক্তার(২৩), ৬। মোঃ রাশেদ (৪০),৭। মাসুদ হাওলাদার(৪৮), ৮। মোঃ সাইফুল ইসলাম ওরফে জয় রাজবংশী (২৭),৯। মোঃ আকাশ মৃধা(২৫),১০। মোঃ কাদির মৃধা(৪৫),১১। মোঃ তপন (২৭),১২। মোঃ আসলাম হোসেন(৪৮)। নামের ১২ ব্যাক্তিকে ১১টি অটোরিক্সাসহ তাদের-কে আটক করে।
উক্ত বিষয়ে ঢাকা জেলা দক্ষিন গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জনাব সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন এর কাছে জানতে চাইলে আমাদেরবাংলাদেশ ডটকমের প্রতিবেদক-কে তিনি বলেন,ঢাকা জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার,জনাব মোঃ আসাদুজ্জামান-পিপিএম (বার) স্যার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার,ডিবি,জনাব মুবাশশিরা হাবীব খান,পিপিএম স্যার এর নির্দেশে অটোরিক্সা চুরি চক্রের সাড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এই অভিযানটিও তার একটি অংশ।
এসয় তিনি আরোও বলেন,আন্তঃজেলা অটোরিক্সা চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় তারা প্রায় সাত-আট বছর ধরেই কেরানীগঞ্জ,সাভার, আশুলিয়া,ধামরাইসহ ঢাকা জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা চুরি করে ৪০/৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে চোরাই অটোরিক্সা ক্রয়-বিক্রয়কারী চক্রের কাছে বিক্রি করত। পরবর্তীতে চোরাই ক্রয় বিক্রয়কারী চক্র অটোরিক্সা গুলোর রং পরিবর্তন করে সেগুলো ৬০/৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করত।
উক্ত বিষয়ে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার জনাব মোঃ আসাদুজ্জামান-পিপিএম (বার) বলেন চুরি চক্রে সাধারনত ৪ জন থাকে,এরা মূলত গভীর রাত বা ভোরবেলায় কখনো কখনো দুপুর বেলাতেও সহজ সরল দরিদ্র অটোরিক্সা চালকদের টার্গেট করে যাত্রী বেশে চালকের আস্থা অর্জন করে কৌশলে চা,জুস বা ক্রীম বিষ্কুটের সাথে নেশা জাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে খাইয়ে দেয়। কয়েক মিনিটের মধ্যে চালক অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে নির্জন স্থানে ফেলে অটো চুরি করে নিয়ে যেত তারা। এছাড়াও সামনে থেকে কোন কিছু নিতে হবে সেখানে চালকের সাহায্য প্রয়োজন বলে চালক-কে অটো থেকে নামিয়ে নিত তারা। চালকের দৃষ্টিসীমার বাইরে চলে গেলে অটোতে বসে থাকা চোর চক্রের সদস্য অটোটি চালিয়ে নিয়ে যেত।
এবং চালকের সাথে থাকা চোর চক্রের সদস্যরা আবার চালক-কে মালামাল পরিষ্কার করার জন্য জুট নেকরা বা কিছু একটা আনার জন্য পাঠিয়ে দিয়ে সেও পালিয়ে যেত। এই চোর চক্রে অটো চালকের আস্থা অর্জনের জন্য নারী সদস্য রাখা হয়। এর আগের তাদের বিরুদ্ধে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অটোরিক্সা চুরি ও চোরাই অটোরিক্সা ক্রয়-বিক্রয় সহ মাদক মামলাও রয়েছে। এছাড়া আটক অটোরিক্সা চোর চক্রের নামে মামলা করে কেরানীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
আমাদেরবাংলাদেশ ডটকম/রাজু